Miscarriage: চুপ করে বসে থাকবেন না!

গর্ভধারণের খবর একজন নারীর জীবনে আনন্দের মুহূর্ত নিয়ে আসে। কিন্তু গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রক্তপাত, পেটের ব্যথা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। কখনও কখনও এগুলো গর্ভপাতের লক্ষণ হতে পারে, আবার অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে চুপ করে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকলে একজন অভিজ্ঞ gynaecologist in Kolkata-র পরামর্শ নিয়ে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা উচিত।

1. গর্ভপাতের লক্ষণ

গর্ভপাতের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে যোনিপথে রক্তপাত বা বাদামি স্রাব, তলপেটে ব্যথা বা ক্র্যাম্প, কোমরে ব্যথা এবং কখনও কখনও গর্ভাবস্থার উপসর্গ হঠাৎ কমে যাওয়া। তবে শুধুমাত্র রক্তপাত হলেই গর্ভপাত হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

2. ডাক্তারের কাছে তাড়াতাড়ি গেলে কি গর্ভপাত আটকানো সম্ভব?

সব ধরনের গর্ভপাত আটকানো সম্ভব নয়। তবে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গেলে কারণটি নির্ণয় করা যায় এবং যেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা বজায় রাখার সুযোগ থাকে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

3. গর্ভপাতের কারণ

গর্ভপাতের অন্যতম সাধারণ কারণ হল ভ্রূণের ক্রোমোজোমগত সমস্যা। এছাড়াও হরমোনের সমস্যা, জরায়ুর কিছু গঠনগত সমস্যা, কিছু সংক্রমণ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভপাতের নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই নিজেকে দোষ দেওয়া উচিত নয়।

4. গর্ভপাতের পর কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

গর্ভপাতের পর শরীরকে সুস্থ হতে সময় দিতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নির্ধারিত ফলো-আপ করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

5. সিগারেট কি ক্ষতি করতে পারে?

হ্যাঁ। ধূমপান গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা গর্ভবতী হলে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। পরোক্ষ ধূমপান থেকেও যতটা সম্ভব দূরে থাকা ভালো।

6. গর্ভাবস্থায় কি অ্যালকোহল নেওয়া যাবে?

গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। অ্যালকোহল ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল গ্রহণ না করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

7. গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করা যাবে?

স্বাভাবিক ও জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা যেতে পারে। হাঁটা, নির্দিষ্ট প্রেগন্যান্সি এক্সারসাইজ বা যোগব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা অন্য কোনও জটিলতা থাকলে ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

gynaecologist in kolkata

 

8. গর্ভপাতের পর কোন পরীক্ষাগুলো করা দরকার?

একবার গর্ভপাত হলে সবসময় অনেক পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বারবার গর্ভপাত হলে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা, থাইরয়েড ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত পরীক্ষা, জরায়ুর গঠন পরীক্ষা বা অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

9. জরায়ুতে টিউমার থাকলে গর্ভধারণ সম্ভব?

জরায়ুতে ফাইব্রয়েড বা অন্য কোনও গঠন থাকলেও অনেক নারী সফলভাবে গর্ভধারণ করেন। তবে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং জরায়ুর কোন অংশে রয়েছে তার উপর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। গর্ভধারণের আগে বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন উপকারী।

10. গর্ভাবস্থায় কি কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে?

অনেক নারী স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থার পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের ধরন পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

11. মানসিক চাপ কি গর্ভপাতের কারণ হতে পারে?

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মানসিক চাপকে গর্ভপাতের একমাত্র কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ মায়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং পরিবারের কাছ থেকে মানসিক সহায়তা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

12. গর্ভাবস্থায় খাবার কেমন হওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। শাকসবজি, ফল, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য, প্রোটিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। কাঁচা বা অপরিষ্কার খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলুন।

13. গর্ভাবস্থায় প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা কি সমস্যা?

গর্ভাবস্থায় জরায়ুর চাপ এবং হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেকের প্রস্রাবের চাপ বা সামান্য লিকেজ হতে পারে। তবে প্রস্রাবে জ্বালা, ব্যথা, জ্বর বা অস্বাভাবিক স্রাব থাকলে ইউরিনারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা দরকার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

14. বারবার গর্ভপাত হলে কি ভবিষ্যতে গর্ভধারণের সমস্যা হতে পারে?

বারবার গর্ভপাতের পেছনে কোনও চিকিৎসাযোগ্য কারণ থাকলে সেটি শনাক্ত করে চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ। পুনরাবৃত্ত গর্ভপাত মানেই ভবিষ্যতে গর্ভধারণ সম্ভব নয়—এমন নয়। কারণ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক নারী পরবর্তীতে সফলভাবে গর্ভধারণ করেন।

15. বয়স বেশি হলে গর্ভধারণের ঝুঁকি কি বাড়ে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গর্ভকালীন জটিলতা এবং ভ্রূণের ক্রোমোজোমগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বেশি বয়সে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিয়মিত antenatal care বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রতিটি গর্ভাবস্থা আলাদা এবং গর্ভপাতের কারণও একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

ডা. শঙ্কর দাসমহাপাত্র–এর মতো অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক সময়ে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করলে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।